ফেইসবুক আর তার জানা অজানা ইতিকথা!

ফেইসবুক

২০১৮ সালে ফেইসবুক এর রেজিস্টার্ড ১.৩ বিলিয়ন ব্যাবহারকারি হবে এমনটা জানিয়েছে এক বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট। হ্যা, অনেকটা অবাক করার মতই এই সংখ্যা। জানিনা এর সত্যতা কতটুকু কিন্তু ফেইসবুকের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে আর এমন হওয়াটা একেবারে অসম্ভব নয়। উঠতে বসতে এখন ফেইসবুকের ব্যবহার যা সত্যিকার অর্থেই লক্ষণীয়।

এমন জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারন রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্য হলো এর সহজ অপারেটিং সিস্টেম। ঠিক যা যা দরকার সবগুলো ফিচার এতে সংযোজিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার কারনে ব্যাবহারকারিরা একে কোন ভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। ব্যাক্তিগত বিনোদন থেকে শুরু করে ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে ফেইসবুক।

আজকের এই ফেইসবুক মোটেও এমন ছিলো না যখন এর জন্ম হয়। মার্ক জুকারবার্গ এর প্রতিষ্ঠাতা এটি সবারই জানা আছে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস। আমরা সে সম্পর্কেই জানবো আজ।

 

মার্ক জুকারবার্গ
মার্ক জুকারবার্গ Image Source : vanityfair.com

 

জুকারবার্গ তখন হাভার্ড ইউনিভার্সিটি তে কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের ছাত্র এবং ফেইবুকের আইডিয়া তিনি নিজে এবং তার সহপাঠী এডুয়ার্ডো সেভেরিন, ডাস্টিন মস্কোভিজ এবং ক্রিস হিউজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন হয়।

২০০৩ সালে জুকার তখন ২য় বর্ষের ছাত্র একটি সফটওয়্যার বানান যার নাম ছিলো ফেইসমাস(Facemash)। সে তার কম্পিউটার স্কিল ব্যাবহার করে হাভার্ড ইউনিভার্সিটির অন্যান্য স্টুডেন্টস দের আইডি এবং ছবি হ্যাক করে এবং তার ওয়েব সাইটের পপুলারিটি বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করে। এখানে সে আরেকটা ইন্টারেস্টিং ফিচার যোগ করে “Hot or Not” নামে। এখানে ইউজাররা পাশাপাশি দুটি ছবি বসিয়ে রেটিং নিতে পারতো যে কার ছবিটি Hot or Not!

২০০৪ সালের অক্টোবর ২৮ তারিখে ফেইসমাশ ওপেন হয় এবং অল্প কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়। কারন সাইবার ক্রাইমের দায়ে জুকারবার্গ দোষী সাব্যস্ত হন। এমনকি তিনি ভার্সিটি থেকে বহিষ্কারও হন। যদিও পরে সমস্ত অভিযোগ তার উপর থেকে তুলে নেয়া হয়।

এর পরে জুকার্বাগ অনেক দিন স্পটলাইট থেকে দূরে ছিলেন। অবশেষে ফেব্রুয়ারি ৪, ২০০৪ সালে “দ্যা ফেইসবুক(TheFacebook)” নামে ওয়েবসাইট লঞ্চ করেন। যার উদ্দেশ্য ছিলো ভার্সিটির সব স্টুডেন্টসরা যেন একে অপরের সাথে আরো ভালো ভাবে জানাশোনা হতে পারে।

ঠিক ছয়দিন পরেই আবারো তিনি ঝামেলায় জড়িয়ে পরেন, হাভার্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ক্যামেরুন উইনক্লেভস, টাইলার উইনক্লেভস এবং দিব্য নারেন্দ্র অভিযোগ করেন যে তিনি তাদের আইডিয়া চুরি করেছেন যা এভাবেই তৈরি হতো এবং তার নাম হতো হাভার্ড কানেকশন। তারা এই নিয়ে মামলাও করেন কিন্তু যেভাবেই হোক আদালতের বাইরেই এর সমাধান হয়ে যায়।

ফেইসবুক এর আত্মপ্রকাশ:

প্রথমদিকে শুধুমাত্র হাভার্ড পড়ুয়াদের জন্য এই সাইট ছিলো কিন্তু কিছুদিন পরে জুকারবার্গ সাইটের পাবলিসিটি বাড়ানোর জন্য এডুয়ার্ডো সেভেরিন কে বিজনেস সেকশনে নিয়োগ দেন। প্রোগ্রামার হিসেবে নিয়োগ পান ডাস্টিন মস্কোভিজ, গ্রাফিক্স আর্টিস্ট হিসেবে আসেন এন্ড্রু মেককলাম এবং ক্রিস হিউজ দায়িত্ব পান কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটর হিসেবে। এই টিম নিয়েই যাত্রা শুরু হয় দ্যা ফেইসবুকের! এবং হাভার্ডের খোলস থেকে বের হয়ে আসে দ্যা ফেইসবুক।

 

সেন পার্কার
সেন পার্কার Image Source: stanford.edu

 

২০০৪ সালে সেন পার্কার নামে এক বড় ধরনের উদ্দ্যক্তা যোগ দেন ফেইসবুক চেয়ারপার্সন হিসেবে। এবং তখন থেকেই ফেইসবুককে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৫ সালে facebook.com ডোমেইন কিনে $২০০,০০০ মুল্য দিয়ে এবং এর পরে দ্যা ফেইবুক এর পরিবর্তে শুধু ফেইসবুক নাম দেয়া হয় কোম্পানির।

পরের বছর ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম এক্সেল পার্টনারস প্রায় ১২.৭ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করে ফেইসবুক কোম্পানিতে। যার ফলে তারা হাই স্কুল লেভেলের স্টুডেন্টসদের জন্য ভার্সন যোগ করতে সমর্থ্য হয়। ১৩ বছর এবং একটি ভ্যালিড ইমেইল এর মালিক হতে পারলেই ফেইসবুকে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে যে কেউ। এটা সংযোজিত হয় সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে। অবশেষে ২০০৯ সালে জুকারবার্গের স্বপ্ন সত্যি হয় অনেক বাধার পর। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট হিসেবে গন্য করা হয় ফেইসবুককে!

 

Mark Zuckerberg Donation
Image Source: vanityfair.com

 

যার ফলস্বরুপ বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিলিওনিয়ার হিসেবে খ্যাতি পান। অবশ্য এই ধন সম্পদের ভালো কিছু ব্যাবহারও তিনি করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১০০ মিলিয়ন ডলার ডোনেট করেছিলেন নিউ জার্সি পাবলিক স্কুলে। এরপরে ২০১০ সালে তার মোট সম্পত্তির প্রায় অর্ধেক দান করেছিলেন এক চ্যারিটিকে। এরপরে ইবোলা ভাইরাসঘটিত রোগ ঠেকাতে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন তিনি। ফেইসবুকের ৯৯% লাভ তিনি ভিবিন্ন জনকল্যাণ মূলক কাজের জন্য তিনি দান করে দিয়েছেন।

2,478 total views, 3 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: