ফ্রিমেসন কি এবং কেনইবা এর জন্ম?

ফ্রিমেসন

আমি শুরুতেই খুবই গুরুত্বপুর্ন একটি কথা বলে নিতে চাই। ফ্রিমেসন নিয়ে অনেক বিতর্ক এবং অনে মিথ প্রচলিত রয়েছে। আমি যতটুকু সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং তা শুধুমাত্র জানানোর উদ্দেশ্যে। কোনভাবেই আমি আপনাদেরকে এই পথ অনুসরন করার জন্য বলছি না। দয়া করে শুধু মাত্র জানা পর্যন্তই সীমাবদ্ধটা বজায় রাখুন।

৪৫৬ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়। এর অনেক পরে সম্ভবত পৃথিবী গঠিত হয়েছে। পৃথিবীর পৃষ্ঠের উল্কা-খণ্ড পরীক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকেরা দাবি করেছেন, আমাদের এই গ্রহ সম্ভবত ৪৪৬ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে বর্তমান আকৃতিতে পৌঁছে। আগের হিসাব অনুযায়ী ধারণা করা হয়েছিল, এর বয়স ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ বছর। বুড়ো হয়ে গেছে পৃথিবী তাই না হ্যাঁ, পৃথিবীতে অনেক জাতি ধর্মের বাস, হিন্দু,মুসলিম,বুদ্ধ,খৃষ্টান,ইহুদি,সিক,জৈন আরও অনেক। আর সবাই যার যার ধর্ম নিয়ে ব্যস্ত, পরকালের চিন্তায় কেউ চলছে ধর্মের নিয়মে কেউ বা বিজ্ঞান এর কাল জয়ী উদ্ভাবনায়।

তবে ধর্মের গ্রন্থ বা বানী ও প্রতিটা ধর্ম গ্রন্থের বর্ণিত কথা একেবারে এড়িয়ে যেতে কেউ পারবে না হোক সে নাস্তিক ধর্মগ্রন্থের প্রভাব একবার হলে প্রভাবিত হবে, তেমনি পৃথিবীতে যুগে যুগে চলে আসছে সকল ধর্মের রীতি নিতি ও আচার অনুষ্ঠান, সব ধর্মালম্বিদের আছে পবিত্র ধর্ম স্থান। আরও এক ধর্মের মানুষ বসবাস করে আমাদের মাঝে যারা কিনা সয়তান এর উপসনা করে হ্যাঁ সয়তান।

সয়তান বা অপদেবতা এদের উল্লেখ সব ধর্মে আছে যারা কিনা মানুষকে খারাপ পথে প্রলুব্ধ করে, আপনি ভাবছেন সয়তান এর উপসনা এ আবার কেউ করে নাকি। হ্যাঁ সয়তান এর উপসনার গ্রন্থ কোডেক্স জিগাস যা কিনা সয়তান নিজে লিখেছিল এমনটাও উল্লেখ আছে। প্রথম স্যাটানিক চার্চ তৈরি হয় অ্যামেরিকার সানফ্রানসিসকোতে ৩০শে এপ্রিল ১৯৬৬ সালে এটির নাম ছিল দ্যা ব্ল্যাক হাউস এবং এর প্রতিষ্ঠা করেন এ্যালান সজান্দর লাভিয়ের, এবং তিনি ছিলেন এটির প্রধান ধর্ম যাজক। লাভিয়ের মৃত্যু বরন করেন ১৯৯৭ সালে।

তার পরে দীর্ঘ ৩ বছর খালি পড়ে থাকে প্রধান যাজক এর আসনটি ২০০১ সালে আবার নিযুক্ত করা হয় প্রধান যাজকের পদটি এবার প্রধান যাজক নিয়োজিত হয় *পিটার এইচ গিলমোর*।

গিলমোর নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি স্থান পরিবর্তন করে সদর দপ্তর হেলস কিচেন, ম্যানহাটন, নিউ ইয়র্ক সিটিতে স্থানান্তরিত করেন। একটা অদ্ভুত বেপার এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে তা হল এই যে। স্যাটানিক চার্চ হিসেবে ব্ল্যাক হাউস কে গণ্য করা হত না এবার একটু বিস্তারিত জানি চলুন, এল্যাল লাভিয়েরের মৃত্যুর পরে কেন ৩ বছর কোন যাজক নিয়োগ হয় নি এর পিছনের কারণ ছিল এই স্যাটানিক চার্চ, ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রানসিসকোতে কারলা লাভি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন, যা ল্যাভেয়ানের শয়তান-বাদের জন্য নিবেদিত এই সংগঠন তৈরি করেছিল প্রথম চার্চ স্যাটানিক চার্চ ৩১শে অক্টোবর ১৯৯৯ সালে (এখনো অবস্থিত) তার পরেই নিয়োগ করা হয় স্যাটানিক প্রধান প্রিস্ট বা যাজক পিটার গিলমোরকে। শয়তানী বই কোডেক্স জিগাস, তবে এই বই এর কোন কপি নেই বা সাধারণ মানুষ কখনো এটিকে পড়তেও পারবে না এবং এটি শুধু শয়তানী বই বাইবেল নয়।

স্যাটানিক বাইবেল
স্যাটানিক বাইবেল

এ্যালান লাভায়ের প্রথম রচনা করেছিলের স্যাটানিক বাইবেল। পিটার গিলমোর যাজক হওয়ার পর ৬০০ টি ক্লাব এগিয়ে আসে ধর্ম প্রচার ও গির্জার বিবৃত মিশন “শয়তান-বাদ এবং আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান গবেষণার প্রসারণ এর জন্য। ভাগ হয় ধর্মের গোত্র এবং তৈরি হয় নতুন অংশ ইলুমিনাতি, কমিটি অফ ৩০০, রোসিক্রুসিয়নিজম, অরডো টেম্পল ওরিয়েন্টিস এবং ফ্রিমেসনারি এছাড়াও আরও আছে।

সকল গোত্রের প্রধান হল এই ফ্রিমেসনারি যা কিনা বর্তমান বিশ্বের সর্ব ক্ষমতাধর ব্যক্তি এর সদস্য বা প্রতিনিধি শুনতে অবাক লাগে তাই না? হ্যাঁ বিষয় টা আরও অবাক করার মত এবং আপনি হয়তো ভাবতে পারেন এগুলো সাজানো, তবে আপনি এটা নিয়ে গুগল,উইকি করতে পারেন।

পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি দেশ বর্তমান ফ্রিমেসনারি মেম্বার, এবং আপনি অবাক হবেন এটা জেনে যে গণতান্ত্রিক সকল রাষ্ট্র ফ্রিমেসনারির অংশ।

ফ্রিমেসন সংগঠনের লক্ষ হল সকল ক্ষমতার একত্রিত জোট গঠন ও এক নায়কত্ব হ্যাঁ তবে ক্ষমতাবান ও অঢেল বিত্তশালীরা জয়েন করার অধিকার বহন করে এই কমিউনিটিতে ফ্রিমেসন এখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড তবে সিক্রেট কমিউনিটি।

ফ্রিমেসন কমিউনিটির বিজনেস,ওয়েব,এপার্টমেন্ট,চ্যানেল সব কিছু মানুষের সামনে তবে এর পেছনে যে ফ্রিমেসন তার কোন প্রকাশ্যতা নেই, পৃথিবী জুরে সকল দেশে ফ্রিমেসন চালিত ক্লাব আছে।

মেলাকা মালেশিয়া, ফ্রিমেসন হল
মেলাকা মালেশিয়া, ফ্রিমেসন হল

একজন ফ্রিমেসন মেম্বার হতে চাইলে অনেকগুলো ধাপ আপনাকে পার করতে হবে এবং যেকোনো সাধারণ মানুষ চাইলেই এর সদস্য হতে পারে না। ফ্রিমেসন এর মেম্বার হতে চাইলে দরকার হবে অন্য ফ্রিমেসনের ইনভাইটেশন, এখানেই শেষ নয় ইনভাইটেশন ছারাও জয়েন করতে পারেন তাদের অফিশিয়াল ওয়েব থেকে।

এখানে কিছু কন্ডিশন থাকে যেগুলো হল এমন আপনার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা যাবে না, আপনার এডুকেটেড হতে হবে,আপনার আস্তিক হতে হবে আরও কিছু এগুলো করলে শুধু হওয়া যাবে নিউবাই মেম্বার এট ব্রাদারহুড। কেউ যদি ফ্রিমেসনারিতে যোগ দিতে চায় তাহলে এনএসডব্লিউ এবং অ্যাক্টের ইউনাইটেড গ্র্যান্ড লজের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, যা অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত এবং এটি ফ্রিমেশনরির গভর্নিং বডি।

আপনি যদি যোগদান করতে আগ্রহী হন তাহলে আপনাকে সদস্যপদ কো-অর্ডিনেটরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং আপনাকে ফ্রাইমেশন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে জানানো হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে – সদস্যপদ সহায়তার প্রকল্প (এমএএস) হিসাবে পরিচিত – এভাবে আপনি যোগ দিতে পারেন লজ সদস্যদের সাথে। এবং দেখা করার আগে ইউনাইটেড গ্র্যান্ড লজের প্রতিনিধিদের সাথে একটি প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে যোগ করতে বলা হবে।একবার এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে গেলে আপনাকে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে এবং আপনার অ্যাপ্লিকেশনের সাথে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করা হবে। এটি একটি আদর্শ পদ্ধতি এবং কোনও সম্ভাব্য সদস্যকে লজের সদস্যদের সাথে দেখা করার সুযোগ দেয় এবং ফ্রিম্যাসনরি সম্পর্কে তার কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে। যেহেতু আপনি এবং লজ সাক্ষাৎকারের সাথে সন্তুষ্ট, তবে ফ্রিমামসনরিতে আপনার ভর্তির জন্য একটি তারিখের ব্যবস্থা করা হবে। আপনাকে কোন এক ক্লাবে ডাকা হবে এবং এখানে প্রবেশ এর পর আপনার জন্য অপেক্ষা করবে রমরমা কিছু কাজ যেমন রোজ একটা খারাপ কাজ করা,নির্দিষ্ট দিনে পশু হত্যা করা,পশু বা মানব রক্ত পান করা, কারো ক্ষতি করা এবং আরও অনেক।

কি ভাবছেন এও হয় নাকি হ্যাঁ এগুলো সব হয়, এর জন্য বিনিময় পাচ্ছেন আপনি তা হল বিদেশি ডোনেশন,ভালো জব,বিলাসী জীবন যাপন।একটি ফ্রাইমাসন তার লজ এবং এনএসডব্লিউ এবং গ্র্যান্ড লজ এন্ড গ্র্যান্ড লজ বার্ষিক সদস্যপদ রক্ষা করতে হলে ফি প্রদান করতে হবে। বেশিরভাগ লজে একটি যোগদান ফি চার্জ করা হয়। সদস্যগণের গড় বার্ষিক খরচ লজের মধ্যে পরিবর্তিত হয় তবে যোগদানের পূর্বে সম্ভাব্য সদস্যদের কাছে ফিগুলি ব্যাখ্যা করা হয়।এবং শেখানো হবে ফ্রিমেসনদের আইন বা নিয়ম কানুন বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও মেসনারি সদস্য কম নয় এমনকি কয়েকটি মেসনারি ক্লাব ও গড়ে উঠেছে এমনকি এর সাথে জড়িত রয়েছে কিছু মিডিয়া।

Miss_World
Miss_World

ওয়ার্ল্ডওয়াইড এওয়ার্ড বিশ্ব-সুন্দরী প্রতিযোগিতা এটি সম্পূর্ণ  ফ্রি মেসনারিরা আয়োজন করে থাকে। এদের লক্ষ সুদূর বিস্তৃত যা আমরা বুঝতে পারি এসকল আয়োজন দেখে।

আসুন জানি ফ্রিমেসনদের কয়েকটি আইন।

★১★তারা একে অপরকে কখনো সত্যের সাক্ষ্য দেবে না।

একজন মেসন যখন মেযন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিচ্ছে তখন সত্যি কথা বললে অন্যদের কাছে এটি মিথ্যা এবং নিজেদের একজনকে বাঁচানো অনেক বড় পাপ।শুধু মিথ্যের সাক্ষী মেসনদের কাছে গ্রহণযোগ্য

★২★তাদের একটি গোপন হ্যান্ডশেইক আছে।

যদিও কিছু সদস্য জনসাধারণের কাছে এটি অস্বীকার করে, ফ্রিমেশনে কিছু একটি গোপন কি-ওয়ার্ড আছে। ধারণা করা হয়, এমন একটি শব্দও রয়েছে যেখানে ফ্রিমেসন গুরুতর বিপদ মোকাবেলা করতে পারে – অন্যান্য সদস্যদের তাদের সাহায্যের জন্য ডাকতে এই কোড-ওয়ার্ড তারা ব্যাবহার করে। মোর্মনবাদের প্রতিষ্ঠাতা, জোসেফ স্মিথ, তার মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্তে এরকম কিছু শব্দ উচ্চারণ করেছেন।

★৩★কিছু গোপন পাসওয়ার্ড।

মেসন সদস্যদের কিছু গোপন পাসওয়ার্ড আছে যেগুলো তারা ব্যাবহার করে তাদের ভিতর গত কোন অনুষ্ঠানে এবং মানুষ হত্যা করতেও তাদের পারমিশন কোড ব্যাবহার করতে হয়।

সাধারণত কোন অনুষ্ঠান পরিচালনায় এবং এতে জয়েন করার জন্য to-bala-kaina এরকম একটি গোপন ওয়ার্ড তারা ব্যাবহার করে।

★৪★সূর্যের পূজা বা উপসনা।

ফ্রিমেসন পুনর্জন্মে বিশ্বাসী, এবং শক্তির পূজারি তাই তাদের সূর্য পূজার একটি ফেস্টিভাল আছে কোথায় এবং কখন এই উৎসব তারা করে তা শুধু একজন ফ্রিমেসন মেম্বারই জানবে এটি সম্পূর্ণ গোপন ফেস্টিভাল।

★৫★ধর্মে বিশ্বাসী ও নাস্তিকতার প্রতিবাদ।

একজন নাস্তিক কখনো ফ্রিমেসন হতে পারবে না। কারণ ফ্রিমেসনরা ধর্মে বিশ্বাস করে এবং একেশ্বরবাদে।

★৬★তারা বিভিন্ন দেশে রাজনীতি ও অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ইংল্যান্ডে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন ব্যাংকিং, রাজনীতি এবং সরকার অসামঞ্জস্য ভাবে জড়িত ফ্রিমেসনের সাথে । এমনকি হাসপাতাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও ফ্রিমেসন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

কোন মেয়ে বা মহিলা কখনো ফ্রিমেসন হতে পারবে না।

আশ্চর্য  হল আমরা নিজেরাও জানিনা আমরা প্রতি পদে পদে ফ্রিমেসন কে সাহায্য করে চলছি। ফ্রিমেসন এর প্রধান উদ্দেশ্য সয়তানকে সাহায্যদান ঈশ্বরকে হারাতে  হ্যাঁ প্রতিধর্মে এমন একটি বিস্ট বা দানবের কথা বলা আছে যে কিনা পৃথিবী ধ্বংস আগে অবতীর্ণ হবে এবং এই বিস্টের থাকবে একটি মাত্র চোখ। এবং এই এক চোখের সাইনকে বলা হয় ইলুমিনাতি সাইন, এই সাইন আমরা অ্যামেরিকার ডলারেও দেখি। তবে এই সকল কিছুর মূলে কি চলছে আমরা জানিনা এবং এরা আদৌ কতদূর বিস্তৃত তাও শুধু অনুমানযোগ্য। সর্বোপরি এসব নিয়ে কারো উৎসাহ জাগতে পারে এবং মেসনারিতে উৎসাহিত করা আমাদের লক্ষ নয় যতটুকু জানা সম্ভব হয়েছে সবাইকে জানানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। দয়া করে কেউ এসবে প্রভাবিত হবেন না।

2,300 total views, 3 views today

One thought on “ফ্রিমেসন কি এবং কেনইবা এর জন্ম?”

  1. Hey webmaster
    When you write some blogs and share with us,that is a hard work for you but share makes you happly right?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: