বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এবং এর জানা অজানা রহস্য!

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

রহস্যময় পৃথিবীর অনেক অজানা আর রহস্য জনক বিষয়ের মধ্যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল একটি । যার রহস্য বিজ্ঞানীরা নানা ভাবে গবেষণা করেও বের করতে পারেনি। চলুন, আজ আমরা জানি কি এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল হল আটলান্টিক মহাসাগরের অবস্থিত একটি ত্রিভুজ আকৃতির অঞ্চল। যে জায়গাটি দিয়ে যদি কোন উড়োজাহাজ, জাহাজ বা যেকোনো ধরনের বাহনই অতিক্রম করুক না কেন তা সমুদ্রের অতুল গহিনে অদৃশ্য হয়ে যায়। কোন ভাবেই আর সে বাহনটির কোন হদিস পাওয়া যায়না। ব্যাপারটি সত্যি অদ্ভুত তাই না? এমন কোন বাহন আজ পর্যন্ত সে জায়গাটি নিরাপদে অতিক্রম করতে পারেনি। তাই এ অঞ্চলটিকে শয়তানের ত্রিভুজও বলা হয়ে থাকে। আসুন, এবার এ বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে আরও তথ্য জানার চেস্টা করি।

বারমুডা ট্রায়েঙ্গেল এর ইতিহাসঃ

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বেশির ভাগই পাঠকের আনন্দ দানের আশায় বা অতি উৎসাহী করে তোলার জন্য মন গড়া বিভিন্ন তথ্য দিয়ে লেখা। তাই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এর সঠিক তথ্য পাওয়া বেশ কষ্টকর। তবে ক্রিস্টোফার কলম্বাস এই বারমুডা সম্পর্কে সর্ব প্রথম তথ্য দিয়েছেন বলে জানা যায়। তাঁর এ বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা এভাবে বলেছেন যে, তার জাহাজের নাবিকেরা নাকি এ অঞ্চলে আলোর নাচানাচি আর আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, এ জায়গায় এসে জাহাজের কম্পাসও নাকি এলোমেলো দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলো। তবে বর্তমানের বিজ্ঞানীরা এর অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেটা হল, নাবিকেরা যে আলো দেখতে পেয়েছিলেন সেটা হল সেখানকার স্থানীয় জনগণের নৌকায় রান্নার ধোঁয়া আর কম্পাসে এলোমেলো দিকনির্দেশনার কারন হল নক্ষত্রের অবস্থানের পরিবর্তন।

তবে এ বিষয়টি পত্রিকার খবরে উঠে আসে ১৯৫০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বের। ই ভি ডব্লিউ জোন্স নামে একজন বিষয়টি নিয়ে লেখেন। তিনি লিখেন যে, একটি প্রশিক্ষণ বিমান মিশনে গিয়ে এ অঞ্চলটি অতিক্রম করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তিনিই এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এর কথা সর্ব প্রথম সবার সামনে তুলে ধরেন। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণঘাতী বা শয়তানের ত্রিভুজ নামক এ অঞ্চলের কাহিনী আলোচিত হতে থাকে। আর এ পথে হয়ে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনা আর নিখোঁজ হবার দায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এর উপর বর্তায়।

 

bermuda-triangle
Image Source: interestingthingsbox.com

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কে নিয়ে আলোচিত আর রহস্যজনক কিছু তথ্যঃ

১৯৪৫ সালে ফ্লাইট নাইন্টিন নামে একটি বোমারু বিমান আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হয়।বলা হয় ভুল ন্যাভিগেশনের কারনে জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়েছে তাই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। তারপর বিমানটিকে খোঁজ এবং উদ্ধারের জন্য যাওয়া আরেকটি বিমান ১৩ জন ক্রু সহ নিখোঁজ হয়। এ দুটি দুর্ঘটনার কারন এখন পর্যন্ত অনুসন্ধান করা যায়নি। কারন কেউ বলেছেন ভুল ন্যাভিগেশনের কারনে বিমান গুলো দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে । আর কেউ বলেন যে ট্যাংকার বিস্ফরনের কারনে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ডগলাস ডি সিঃ

ডগলাস ডিসি নামের আরেকটি বিমান ১৯৪৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৩২ জন যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ হবার খবর পাওয়া যায়। স্থান সেই একই শয়তানের ত্রিভুজ। জাহাজের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ না দিয়ে বিমানটি যাত্রা শুরু করে আর দুর্ঘটনার কবলে পতিত হয় বলে জানা যায় । তবে এর সত্যতা কত টুকু তা জানা যায় নি।

ইউ এস এস সাইক্লোপসঃ

১৯১৮ সালে ৪ মার্চ বার্বাডোস দ্বীপ থেকে যাত্রা শুরু করার পর ইঞ্জিন বিকল হয়ে ৩০৯ জন ক্রু আর ম্যাঙ্গানিজ আকরিক সহ জাহাজটি নিখোঁজ হয়। এ কারনে যুক্তরাষ্ট্রে নৌ বিভাগের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়। শত্রু দ্বারা আক্রমন বা অন্য কোন ভাবে বিমানটি ক্ষতি গ্রস্থ হবার খবর পাওয়া যায়নি । তবে কেউ বলেছেন ঝড়ের কারনে জাহাজটি ডুবে গেছে। আবার কেউ বলেছেন অতিরিক্ত আকরিক বোঝাই এর কারনে ডুবে গেছে । তবে কারন যেটাই হোক না কেন সবগুলো দুর্ঘটনাই ঐ একই জায়গায় হয়েছে  এটাই দেখার বা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক আর প্রাকৃতিক কিছু কথাঃ

অস্ট্রেলিয়ার গবেষণাগার থেকে বলা হয়েছে বাতাসে যে বুদবুদ হয় তা পানির ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। সেজন্য সাগরের পানিতে যখন মিথেন উদগীরন হয় তখন পানিতে কিছু ভেসে থাকার প্রবনতা কমে যায় এবং যার ফলে জাহাজ ডুবি হয়। এবং এত দ্রুত ডুবে যে কোন সতর্ক বার্তা দেয়া সম্ভব হয়না।

আবার বিজ্ঞানীরা মনে করেন কম্পাসের ভুল দিক নির্দেশনার কারনে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সে কারনে অহেতুক বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কে দোষ দিয়ে লাভ নাই। কিন্তু সমস্যা হল যারা এ স্বাভাবিক  বিষয়ে জানেনা তাদের কে নিয়ে।

মানুষই যখন দায়ীঃ

নানা জল্পনা কল্পনার পরও তদন্ত করে দেখা গেছে যে বেশীর ভাগ দুর্ঘটনার জন্য চালকই দায়ী এবং তার ভুলের কারনেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে । তাই ধরা যায় যে এ ধরনের ভুল বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল অতিক্রম করার সময়ও হতে পারে। আবার সাগরের কিছু অংশে জলদস্যুর আক্রমন হয়ে থাকে। এ কারনেও জাহাজ নিখোঁজ হতে পারে। আবার অনেক সময় দস্যুরা সমুদ্রে রাতে আলো জ্বালাত নাবিকদের বিভ্রান্ত করার জন্য। নাবিকরাও সে আলোকে বাতিঘর ভেবে এগিয়ে গেলে পাহাড়ের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যেত। এভাবেই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের স্বীকার হতো জাহাজ গুলো।

পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এই সমুদ্রে অন্য সমুদ্রের চেয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায়নি। এমনকি সে এলাকার কোস্ট গার্ডরাও এ কথা স্বীকার করেছেন, এ সাগরে এমন অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায় নি। বেশীরভাগ দুর্ঘটনার যে কারন গুলো দেখিয়ে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো ভিত্তিহীন । আরেকটি বিষয় হল বারমুডা ট্রায়েঙ্গেলের সীমা রেখা শুধু জলপথে আছে তা কিন্তু নয়। কিছু স্থলপথেও এর সীমা রেখা আছে। কিন্তু সেসব জায়গায় কিছু নিখোঁজ হবার খবর এ পর্যন্ত জানা যায়নি।

ইতিকথা, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলকে ঘিরে যত কথাই হোক না কেন গবেষকরা কিন্তু থেমে নেই। নানা তথ্য উপাত্ত নিয়ে চলছে এর রহস্য উদঘাটনের কাজ। তাই আমরা আশা করতে পারি একদিন না একদিন এর রহস্যের জট খুলবেই । সে অপেক্ষায় রইলাম।

 

Information source: https://bn.wikipedia.org/wiki

 

3,345 total views, 3 views today

1 thought on “বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এবং এর জানা অজানা রহস্য!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: