স্বপ্ন এবং এর রহস্যজাল বেষ্টিত মানব সম্প্রদায়!

Dream Mystery

স্বপ্ন এক অমিমাংসিত প্রাচীন রহস্য।যেখানে অত্যাধুনিক বিজ্ঞানও নীরব!

কেউ কেউ তো স্বপ্ন চর্চা করতো স্বপ্ন চাষ করার উদ্দেশ্যে! অবাক করা তথ্যই বটে! আমিও যারপরনাই অবাক হয়েছি যখন স্বপ্ন নিয়ে কিছু জানাবো আপনাদের এই উদ্দেশ্যে ইনফরমেশন কালেক্ট করা শুরু করি। স্বপ্ন নিয়ে আমাদের কৌতূহল কম নয় বরং হাজার বছর ধরে একে নিয়ে গবেষনা করেও এর কুল কিনারা করতে পারেনি কেউ।না পেরেছে বিজ্ঞান আর না পেরেছে দর্শন অথবা অন্য কেউ। খুবই স্বাভাবিক অথচ কতটা অস্বাভাবিক ভাবে নিজেকে প্রকাশ না করে সৃষ্টির শুরু থেকেই ওতপ্রোত ভাবে মানব দেহ অথবা মানব পরিবেশের সাথে জড়িয়ে আছে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সজ্ঞা দিয়েছেন কিছু গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা তবে তাও প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে। তারা বলেন মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় তার শরীর সাময়িক সময়ের জন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায় এবং সেই সময়ে কেবল অক্ষিগোলক দ্রুত নড়াচড়া করে, এই অবস্থাকে বলা হয় REM (Rapid Eye Movement) এবং এই অবস্থায় মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নের শ্রেণিবিন্যাস করাটা প্রায় অসম্ভব। এগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন মানুষের কল্পনা, অবচেতন মন (6th Sense) হতে পারে অথবা এই জাতীয় কিছু। মোদ্দাকথা কতগুলো ছবি এবং আবেগের সমষ্টি মিলেই স্বপ্ন গঠিত হয়।

 

স্বপ্ন
Source: adelaidedreamhomes

 

সিগমুন্ড ফ্রয়েড একজন গবেষক এবং সাহিত্যিক। তিনি স্বপ্নের মোটামুটি একটা তত্ত্ব দাড় করান। যেখানে তিনি বলেন “স্বপ্ন মুলত গোপন আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগগুলির বহিঃপ্রকাশ।” তার বিখ্যাত বই The Interpretation of Dreams যেখানে তিনি স্বপ্ন সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেন। তবে এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

অনেকে স্বপ্নকে বলেন সমস্যা সমাধানকারী আবার কেউ বলেন মস্তিষ্ক বিকাশের মাধ্যম। বিংশ শতাব্দীতে এসে যে আমরা স্বপ্নের পিছনে উঠে পরে লাগবো অথবা এর রহস্য প্রতি শতাব্দী জুড়েই থাকবে তার ভবিষ্যৎ হয়তো অনেক আগের ঐতিহাসিকরাও জানতেন।

প্রায় ৫০০০ হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় স্বপ্ন সম্পর্কে উদ্ভাবিত কিছু বিশদ বর্ণনা আবিস্কার হয় যা কিনা মাটির তৈরি ট্যাবলেটে নথিভুক্ত ছিলো। প্রাচীন গ্রিক এবং রোমানীয় লোকজন স্বপ্নকে বলতো দেবতাদের প্রত্যক্ষ বার্তা অথবা মৃত মানুষ থেকে আসা ভবিষৎবাণী।

এবার আসি কোন ধর্মালম্বিদের কি ধারনা ছিলো স্বপ্ন নিয়ে।

হিব্রুরা তাদের ধর্মের সাথে স্বপ্নকে জড়িয়ে নিয়েছিলো। তারা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলো এবং তারা ভাবতো যে স্বপ্নের মাধ্যমে স্রষ্টা তার বানী প্রকাশ করেন। স্বপ্নকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলো তারা, ভালো স্বপ্ন এবং খারাপ স্বপ্ন। ভালো স্বপ্ন আসতো ঈশ্বর থেকে আর খারাপ স্বপ্ন আসে শয়তান থেকে।

খৃষ্টান ধর্মালম্বিরা হিব্রুদের অনুসরণ করেছে প্রায় একই ভাবে। তারা তো স্বপ্ন কে আলাদা একজন চরিত্র বলে ধরে নিয়েছিলো।

হিন্দু ধর্মের লোকজনের ধারনা কিছুটা আলাদা। কিন্তু বিষয় বস্তু একই। তারা স্বপ্নকে তিন ভাগে ভাগ করে যা তাদের বেদ ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। (প্রকারভেদ নিয়ে দ্বিধা থাকায় প্রকাশ করলাম না) ইসলাম ধর্মালম্বিদের মতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিছু তথ্য পাওয়া যায় স্বপ্ন সম্পর্কে।

এর পেছনে যুক্তিও রয়েছে যা প্রায় সবার মতামতের সাথে মিলে যায়। এদের মতে স্বপ্ন হলো তিন প্রকার। প্রথম, রুইয়ায়ে সালেহাহ তথা ভালো স্বপ্ন যা স্রষ্টা থেকে সুসংবাদ। দ্বিতীয়, রুইয়ায়ে শায়তানি তথা খারাপ স্বপ্ন এবং তৃতীয়, রুইয়ায়ে নাফসানি তথা মানুষের চিন্তা চেতনার কল্পচিত্র।

ধর্মীয় ভাবে আরো অনেক বিশদ বর্ননা রয়েছে এবং অনেক যুক্তি এবং যুক্তি খন্ডনও রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন গবেষকদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত।

Information Source:
https://en.wikipedia.org/wiki/Dream
https://houndstoothlabel.bandcamp.com/album/in-deaths-dream-kingdom
https://dreamacttoolkit.org

3,160 total views, 2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: