অদ্ভুত এক বিদ্যা সম্মোহন (Hypnotize) বা হিপনোটিজম

Hypnotize

সম্মোহন (Hypnotize) হল একজনের মনের ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করার জন্য আদেশ , আবেগ ও কল্পনা শক্তি দ্বারা অন্যকে প্রভাবিত করে তাকে সে কাজটি করতে বাধ্য করা। এমন অবস্থায় আদিষ্ট ব্যক্তি আদেশদাতার কথা নির্দ্বিধায় পালন করতে বাধ্য হয়। এ কাজটি পরিচালনা করাকে হিপনোসিস বা সম্মোহন বলে।

এ পদ্ধতি অনেক আগের কাল থেকে কিছু মানুষ ব্যাবহার করে আসছে। তখনকার সময়ে মানুষ একে যাদুবিদ্যা হিসেবে চিনত। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এ বিদ্যার নামকরণ করা হয় ‘’ মেজমেরিজম’’ নামে। “ডক্টর ফ্রান্ডস অ্যান্টন মেজমার” নামে অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরের একজন ডাক্তার সর্বপ্রথম এ বিদ্যার চর্চা শুরু করেন।

তার নামানুসারে সবাই একে মেজমেরিজম নামে জানত। এরপর ১৮৪০ সালে এর আরেকটি নতুন নাম রাখা হয়। তবে এর কিছু দিন পর স্কটল্যান্ডের জেমস ব্রেড এর নতুন নামকরণ করেন ‘’ হিপনোটিজম’। যেহেতু সম্মোহিত হয়ে প্রায় ঘুমের ঘোরে এ কাজ করা হয়, তাই ব্রেড এ বিদ্যার বর্তমানে প্রচলিত এই নাম দেয়।

কিভাবে এ বিদ্যা কাজ করে?

সহজ কথায় বললে বলতে হয়, কোন মানুষকে চরম প্রস্তাবনা আর গভীর কল্পনা শক্তি দিয়ে কোন কাল্পনিক বা অবাস্তব ঘটনাকে মোহগ্রস্তের  মাধ্যমে বাস্তব বলে মনে করানো। এ সময় মোহগ্রস্ত মানুষটি তার নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে আদেষ্টার আদেশ পালনে বাধ্য হয়। সম্মোহিত মানুষটি মনে করে সে ঘুমের মধ্যে আছে কিন্তু আসলে সে ঘুমের মধ্যে নেই। বেশীরভাগ সময় সে মনে করে এটা দিবা স্বপ্ন। অথবা সে কোন বই বা মুভিতে নিজেকে কল্পনা করে।

যে লোকটি সম্মোহন করছেন তিনি সম্মোহিত মানুষটির এলোমেলো চিন্তাগুলিকে একদিকে কেন্দ্রীভূত করে তার মস্তিষ্কের সচেতন অংশকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে হিপনোসিস করা চালিয়ে যান। সম্মোহন করার সময় সম্মোহনকারী যাকে সম্মোহিত (Hypnotize) করবেন তাকে রিলাক্স হয়ে বসার নির্দেশনা দেন। তিনি তার মস্তিষ্কের সচেতন অংশকে সাময়িক ভাবে নিয়নরং করে, তার এলোমেলো চিন্তাধারাকে একদিকে কেন্দ্রীভূত করে ফেলেন এবং সম্মোহিত করার কাজে মন ও মস্তিষ্কের এ সময়টিকে বেছে নেন। এ সময় কিছু শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায় । তা হল,সম্মোহিত মানুষটির নাড়ির স্পন্দন কমে যায়। শ্বাস প্রশ্বাস কমে যায় । এ সময়টিতে তাকে যিনি সম্মোহন করবে তিনি তাকে তার নিজস্ব নির্দেশনা প্রদান করেন।এ কাজে একটি শান্ত পরিবেশ বেছে নেয়া হয় এবং সম্মোহনকারী শিথিল আওয়াজে কথা বলেন।

 

Hypnotize
বিজ্ঞান এবং হিপনোটিজম – Image Source- thescienceexplorer

এ বিষয়ে বিজ্ঞান কি বলে?

ব্রিটিশ মেডিকেল এ নিযুক্ত একটি কমিটি অনেক গবেষণা করে জানতে পারে যে, হিপনোটিজম একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।এরপর থেকেই এ বিষয়টিকে ভাল ভাবে জানার জন্য বিজ্ঞানীরা উঠে পরে লাগে। এরপর এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে হিপনোটিজম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। আমাদের পৃথিবীর প্রায় সব ঘটনাই প্রাসঙ্গিক। শুধুমাত্র কিছু ঘটনা ব্যতিক্রম। আধুনিকতার এ যুগে কোন কিছুকে দৈবিক বলে ছুড়ে ফেলা যায় না। সে বিষয়ে গবেষণা করে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে গবেষণা করে যে তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হল,

  • প্রায় সবাইকে হিপনোটাইজ (Hypnotize) করা সম্ভব।
  • প্রবল ইচ্ছা শক্তির মানুষকেও হিপনোটাইজ করা যায়।
  • কোন জনসংখ্যার প্রায় ৯০ ভাগকেই হিপনোটাইজ করা যায়।
  • যে ১০ ভাগকে হিপনোটাইজ করা যায়নি তাদেরকেও হিপনো থেরাপিতে অভ্যস্ত করা যায়।

তবে হিপনোথেরাপি পদ্ধতি খুব সহজ।এর উদ্দেশ্য কাউকে হিপনোটাইজ করা নয়।এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সাজেশনের মাধ্যমে রোগীকে তার সমস্যা থেকে উদ্ধার করা হয়। হিপনো থেরাপি হল “ প্রোগ্রামিং অফ সাবকন্সাস মাইন্ড’’। এ পদ্ধতির মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি রোগীর মূল সমস্যা ধরে ফেলা যায়। তবে সাজেশনে ভুল হলে প্রোগ্রামিং এ সমস্যা হতে পারে। কোন কোন সময় একটা বা দুটো শব্দ অতিরিক্ত গ্রহণ বা বর্জন সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। তাই অভিজ্ঞ আর প্রশিক্ষিত হিপনোথেরাপিস্ট ছাড়া অন্য কারো কাছে থেরাপি নেয়া উচিত নয়। এ থেরাপির বিশেষ সুবিধা হল কোন রকম ওষুধ ছাড়া অনেক ধরনের অসুখ বিমুখ থেকে নিস্তার পাওয়া যায় ।

 

Hypnotize
হিপনোটাইজ প্রতিক্রিয়া- Image Source-justimaginehypnosiscenter

হিপনোটাইজ (Hypnotize) এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া:

আসলে হিপনোটাইজ হল কোন কিছুর উপর অতিরিক্ত আসক্তি, অদ্ভুত আচরণ আর কোন বিষয়ে ভীতি দূর করার একটি অভিনব আর শক্তিশালী পদ্ধতি। তবে এর বিপরীত প্রক্রিয়াও দেখা যেতে পারে। এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া হিসেবে যে বিষয় গুলো দেখা যায় সেগুলো হল ক্লান্তি, কোন কিছু চিহ্নিত করতে সমস্যা, ভয়, অস্বস্তি, শরীরে যন্ত্রণা অনুভূত হওয়া, দ্বিধা, অদ্ভুত আচরণ করা, অসদাচরণ করা, স্মৃতি শক্তি লোপ এবং আরও অনেক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও এ বিপরীত প্রতিক্রিয়া গুলোতে আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায় যেমন, এলোমেলো সাজেশন দেয়া, নিজের আসল সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারা,আত্মহত্যা প্রবনতা দেখা যাওয়া ইত্যাদি

এছাড়াও এ রোগীর একটি বিশেষ প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ দেয়া যায় এভাবে, একজন সম্মোহিত মানুষকে যদি সম্মোহনকারী এক প্লেট ভাত খেতে দেন, সে মানুষটি সবগুলো ভাত খেয়ে নিবে। তারপর যদি সে প্লেটে আবার ভাত দেয়া হয় তাও খেয়ে ফেলবে। এভাবে যতবার দেয়া হবে সে খাবে। কিন্তু একসময় সে যখন খেতে খেতে পেট ভরে যাবে তখন হয়ত সে বমি করে ফেলবে। সে মুহূর্তে যদি সম্মোহনকারী তাকে না থামায় বা খাওয়া বন্ধ করতে না বলে সে বমিও খেয়ে ফেলতে পারে ।

তাহলে সবশেষে বলা যায় যে, সত্যিকার অর্থেই হিপনোটিজম একটি অদ্ভুত পদ্ধতি। মনে রাখতে হবে সম্মোহনকারীর যদি অসৎ উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য সম্মোহিত মানুষকে ব্যাবহার করতে পারে। তাই অবশ্যই রোগীকে একজন রেজিস্টার ও প্রশিক্ষিত সম্মোহনকারীর নিকট যেতে হবে।

 

তথ্যসূত্র ঃ http://owndoc.com/side_effects/alternative-treatments/hypnosis/

 

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%A8

ইমেজ সূত্র; https://www.google.com/search?q=illusion+images&tbm=isch&source=iu&ictx=1&fir=4KG1FK0Z734W0M%253A%252C_t18_CTChoMhYM%252C_&usg=__7-EIPDTl6lMSOf73oiqNNHyneGk%3D&sa=X&ved=0ahUKEwjunYmtpvjYAhWGNY8KHeDMCdMQ9QEIQTAM#imgrc=Ne4tKSM1alBQoM:

 

 

 

 

3,674 total views, 24 views today

2 thoughts on “অদ্ভুত এক বিদ্যা সম্মোহন (Hypnotize) বা হিপনোটিজম

  1. It’s appropriate time to make some plans for the longer term and it’s time to be happy. I have learn this submit and if I could I wish to recommend you few interesting issues or suggestions. Perhaps you could write subsequent articles regarding this article. I wish to learn more things about it!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: